খুন-রাহাজানি বাড়ছে, আতংকিত মানুষ

প্রকাশিত: ১০ মে, ২০২৬ ১৩:০৭ (মঙ্গলবার)
খুন-রাহাজানি বাড়ছে, আতংকিত মানুষ

দেশজুড়ে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, পারিবারিক সহিংসতা ও নৃশংস অপরাধের ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নারী, শিশু ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও গভীর হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া হত্যার ঘটনাগুলো ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কোথাও পারিবারিক বিরোধ, কোথাও আধিপত্য বিস্তার, আবার কোথাও ব্যক্তিগত প্রতিশোধ ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।

শনিবার গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক নারী, তার তিন সন্তান ও ভাই। ঘটনার পর থেকে নিহত নারীর স্বামী পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক কলহ থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

এদিকে ময়মনসিংহে অপহরণের পর এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে গুলিতে এক যুবক নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছে এক শিশু। নারায়ণগঞ্জেও তালাবদ্ধ ঘর থেকে এক তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম কয়েক মাসেই দেশে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক সহিংসতা, গণপিটুনি, কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে শত শত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধের ধরন এখন আরও ভয়ংকর ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য বা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির হাতেই খুন হচ্ছেন মানুষ। সামাজিক সহনশীলতা কমে যাওয়া, পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, অর্থনৈতিক চাপ এবং দ্রুত বিচার না হওয়াকে এর বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির সরকারি দাবি থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করছে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের সংকট রয়েছে। অনেক ঘটনায় অপরাধীরা দ্রুত গ্রেপ্তার না হওয়া কিংবা বিচার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে যাওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে ভয় কমে যাচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অভিযান বা বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। অপরাধ দমনে কার্যকর গোয়েন্দা নজরদারি, দ্রুত বিচার, সামাজিক সচেতনতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। অন্যথায় সহিংসতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

এদিকে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, প্রতিদিনই যদি খুন, গুম, সহিংসতা ও পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের খবর আসে, তাহলে নাগরিক নিরাপত্তা কোথায়? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির সরকারি বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে পাচ্ছেন না অনেকেই।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.