কেমব্রিজের গণিত পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস; বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পুনঃপরীক্ষা

প্রকাশিত: ০৯ মে, ২০২৬ ০৪:১৮ (মঙ্গলবার)
কেমব্রিজের গণিত পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস; বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পুনঃপরীক্ষা

বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের গণিত পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা। প্রশ্নপত্র আগেই ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত গণিতের একটি পরীক্ষা বাতিল করেছে কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে আগামী ৯ জুন পুনঃপরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এতে বলা হয়, গত ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত গণিত পরীক্ষার প্রশ্ন নির্ধারিত সময়ের আগেই কিছু অঞ্চলে ফাঁস হয়ে যায়। তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয়েছে যে, এই প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে ন্যায়সংগত ফলাফল প্রকাশ সম্ভব নয়।

কেমব্রিজ জানায়, প্রশাসনিক অঞ্চল ৩ ও ৪-এর আওতাভুক্ত দেশগুলো এই সিদ্ধান্তের মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, আফ্রিকা ও ইউরোপের কয়েকটি অঞ্চল রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের কিছু অংশেও পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী হাজারো শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। বাংলাদেশের ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে দাবি করেছেন, পরীক্ষার আগের রাত থেকেই বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপ ও বার্তায় প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছিল।

কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত প্রশ্নফাঁসের অধিকাংশ অভিযোগই তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। তবে এবারের ঘটনায় তদন্তে স্পষ্টভাবে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে পূর্ববর্তী ফলাফলের ভিত্তিতে নম্বর নির্ধারণ না করে সরাসরি পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা বজায় থাকে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৯ জুন পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য শিক্ষার্থী বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত কোনো ফি দিতে হবে না। একইসঙ্গে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১১ আগস্টই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

কেমব্রিজ আরও জানিয়েছে, ১৫ মে’র মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোকে পুনঃপরীক্ষার বিস্তারিত নির্দেশনা পাঠানো হবে। যারা জুন সেশনের পরিবর্তে নভেম্বর সেশনে পরীক্ষা দিতে চান, তাদের জন্যও বিশেষ আবেদন সুবিধা রাখা হবে।

ঘটনাটিকে প্রশ্নপত্র চুরি হিসেবে উল্লেখ করেছে কেমব্রিজ কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। কোনো শিক্ষার্থী বা ব্যক্তি প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রমাণিত হলে তাকে স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা অঙ্গনে এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডিজিটাল তথ্য ফাঁস এবং বৈশ্বিক মূল্যায়ন পদ্ধতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.