লেবারের ভরাডুবিতে স্টারমারের উপর চাপ বাড়ছে
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচন, ওয়েলস পার্লামেন্ট ও স্কটল্যান্ডের ভোটে হতাশাজনক ফলাফলের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে চাপ বাড়তে শুরু করেছে। লেবার পার্টির ভেতর থেকেই এখন প্রশ্ন উঠছে, তিনি আদৌ পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন কি না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর অন্তত এক ডজন লেবার এমপি প্রকাশ্যে বা আড়ালে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ সরাসরি তার পদত্যাগ দাবি করছেন, আবার কেউ নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নেতৃত্ব ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
দলটির কয়েকজন এমপির দাবি, ভোটারদের বড় একটি অংশ লেবার পার্টির চেয়ে ব্যক্তিগতভাবে কিয়ার স্টারমারের প্রতিই বেশি বিরূপ ছিলেন। এক এমপি বিবিসিকে বলেন, “ভোটারদের দরজায় দরজায় গিয়ে আমরা একটি কথাই সবচেয়ে বেশি শুনেছি—সমস্যা স্টারমার নিজেই। তাকে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে গেলে আমরা টিকতে পারব না।”
তবে দলটির ভেতরে সবাই নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে নন। অনেকেই মনে করছেন, সরকার পরিচালনার মাঝপথে নেতৃত্ব সংকট তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। কয়েকজন সিনিয়র নেতা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন কেউ এলেও দেশের অর্থনীতি, করনীতি ও জনঅসন্তোষের মতো বড় চ্যালেঞ্জগুলো থেকেই যাবে।
এরই মধ্যে ব্রিটেনের ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল স্টারমারের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছেন, “এই ফলাফলের দায় শুধু নেতার ওপর চাপিয়ে দিলে হবে না। পুরো দলকেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।”
তবে দলটির মধ্য-বাম ঘরানার নেতারা ক্রমেই চাপ বাড়াচ্ছেন। সাবেক মন্ত্রী লুইস হেইগ বলেছেন, জনগণ পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে এবং দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন না এলে স্টারমারের পক্ষে পরবর্তী নির্বাচন নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন হবে।
আরেক লেবার এমপি সারা ওউয়েন আরও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাস্তব পরিবর্তন দেখাতে না পারলে কিয়ার স্টারমার আর কোনো নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না।”
এদিকে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নামও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। লেবারের একটি অংশ মনে করছে, ভবিষ্যতে তিনি নেতৃত্বের দৌড়ে নামতে পারেন। তবে বর্তমানে তিনি পার্লামেন্ট সদস্য নন। ফলে নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নিতে হলে আগে তাকে সংসদে ফিরতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন শুধু লেবারের জন্য নয়, পুরো ব্রিটিশ রাজনীতির জন্যই বড় ধাক্কা। ওয়েলসে দীর্ঘদিনের আধিপত্য হারিয়েছে লেবার, বিভিন্ন কাউন্সিলে বড় ধরনের ভরাডুবি হয়েছে কনজারভেটিভদেরও। একইসঙ্গে ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উত্থান ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।
তবে এখনই নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত দেয়নি লেবার পার্টি। কিয়ার স্টারমার আগামী সপ্তাহে বড় ধরনের নীতিগত ঘোষণা ও নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছেন। দলটির ভেতরের অনেকেই মনে করছেন, সেই ঘোষণার প্রতিক্রিয়াই ঠিক করে দিতে পারে স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.