নিউহ্যামে ফরহাদ, টাওয়ার হ্যামলেটসে লুৎফুর; লন্ডনে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক শক্তির নতুন বার্তা

প্রকাশিত: ০৯ মে, ২০২৬ ০০:০৯ (মঙ্গলবার)
নিউহ্যামে ফরহাদ, টাওয়ার হ্যামলেটসে লুৎফুর; লন্ডনে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক শক্তির নতুন বার্তা

লন্ডনের স্থানীয় নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক। পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যামে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন সিলেটের বালাগঞ্জের সন্তান ফরহাদ হোসেন। অন্যদিকে টাওয়ার হ্যামলেটসে বিশাল ব্যবধানে আবারও জয় পেয়েছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিক লুৎফুর রহমান।

নিউহ্যাম কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র নির্বাচনে ফরহাদ হোসেন পেয়েছেন ২৫ হাজার ৫৩৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ মির্জা পেয়েছেন ২০ হাজার ২৩৪ ভোট। প্রায় ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়ে আলোচনায় আসেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লেবার নেতা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির ব্যানারে একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীর এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়া ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য বড় অর্জন। দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি কার্যক্রম, সামাজিক উন্নয়ন ও স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ফরহাদ হোসেন। নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় সেবা উন্নয়ন, কমিউনিটি সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং তরুণদের সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বিজয়ের পর ফরহাদ হোসেন বলেন, এই জয় শুধু তার ব্যক্তিগত নয়, পুরো কমিউনিটির গর্ব। তিনি সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

অন্যদিকে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র হিসেবে চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন লুৎফুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৬৭৯ ভোট। তার বিপরীতে লেবার পার্টির প্রার্থী পান ১৯ হাজার ৪৫৪ ভোট। মাত্র ২৩১ ভোট কম পেয়ে তৃতীয় স্থানে প্রায় চলে যায় লেবার। গ্রিন পার্টির প্রার্থী পেয়েছেন ১৯ হাজার ২২৩ ভোট।

২০১০ সালে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে “Executive Mayor” পদে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন লুৎফুর রহমান। এরপর ২০১৪, ২০২২ এবং এবার ২০২৬ সালেও জয় পেলেন তিনি। তার দল Aspire Party ২০২২ সালে লন্ডনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লেবার, কনজারভেটিভ ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের বাইরে কোনো দল হিসেবে পুরো একটি বরো নিয়ন্ত্রণে নেয়।

নির্বাচনী প্রচারণায় লুৎফুর রহমানের পাশে ছিলেন সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনও। তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসকে “রূপান্তরমূলক স্থানীয় সরকারের উদাহরণ” বলে মন্তব্য করেছিলেন।

লুৎফুর রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে ছিল নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত সুবিধা চালু করা। এর আগে তার প্রশাসন লন্ডনে প্রথমবারের মতো সব প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি শিক্ষার্থীর জন্য ফ্রি স্কুল মিল চালু করে আলোচনায় আসে। এছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া Education Maintenance Allowance (EMA) পুনরায় চালুর উদ্যোগও নেয় তার প্রশাসন।

বিজয়ের পর দেওয়া বক্তব্যে লুৎফুর রহমান বলেন, বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে মানুষ আশা ও ঐক্যের রাজনীতিকে বেছে নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে তাকে ঠেকাতে বিভ্রান্তিকর এআই ভিডিওসহ নানা ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছিল। তারপরও জনগণ তাদের ওপর আস্থা রেখেছে।

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকেই এই দুই বিজয়কে। বিশেষ করে সিলেটি কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ব্রিটিশ বাংলাদেশি সমাজে।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.