ধর্মীয় বক্তব্যের আড়ালে ছড়ানো হচ্ছে উগ্রবাদ

প্রকাশিত: ০৮ মে, ২০২৬ ০৪:৫২ (মঙ্গলবার)
ধর্মীয় বক্তব্যের আড়ালে ছড়ানো হচ্ছে উগ্রবাদ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কিছু ধর্মীয় বক্তার বক্তব্য ঘিরে দেশে নতুন করে উগ্রবাদ বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি সহিংসতার আহ্বান নয়, বরং ধাপে ধাপে ধর্মীয় ব্যাখ্যার অপপ্রয়োগ, বিভাজনমূলক বয়ান এবং আবেগনির্ভর প্রচারণার মাধ্যমেই তরুণদের একাংশকে উগ্র মতাদর্শের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ধর্মীয় আলোচনা ও ব্যক্তিগত মতামতের আড়ালে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শ প্রচার করা হচ্ছে। শুরুতে ধর্মীয় আবেগ ও পরিচয়ের প্রশ্ন সামনে আনা হলেও পরে ভিন্নমতকে ‘শত্রু’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। একপর্যায়ে সহিংসতাকেও বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা দেখা যায়।

সম্প্রতি ইসলামিক বক্তা হিসেবে পরিচিত মুযাফফর বিন মুহসিন-এর একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। একটি ঘরোয়া আলোচনায় তাকে বলতে শোনা যায়, “বেনামাজিকে মেরে ফেলতে হবে।” তার ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পাতায়ও একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ধরনের বক্তব্য জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ তরুণদের একটি অংশের মধ্যে এসব বক্তার অনুসারী সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

২০১৪ সালে আলোচিত ইসলামি ব্যক্তিত্ব নুরুল ইসলাম ফারুকী-কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর দেশজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। পরে ওই বছরের আগস্টে তাকে হত্যা করা হয়। সে ঘটনায় উসকানির অভিযোগে মুযাফফর বিন মুহসিনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে অভিযোগপত্রে তার নাম রাখা হয়নি।

নিহত ফারুকীর ছেলে আহমেদ রেজা ফারুকী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনেও মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি এবং নতুন করে আইনি উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে গত ৫ মে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এক ব্রিফিংয়ে বলেন, দেশে “নিম্নমাত্রার উগ্রবাদী ঝুঁকি” রয়েছে এবং এ বিষয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে আছে।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে উসকানিমূলক ধর্মীয় বক্তব্য প্রচার হলেও অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার মতে, “ধর্ম পালন করা বা না করা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। কাউকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্মীয় আচরণে বাধ্য করার চেষ্টা সমাজে সহিংসতা বাড়াতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ঘৃণা, সহিংসতা বা হত্যার বৈধতা দেওয়া যায় না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। র‌্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্রবাদী বক্তব্য ছড়ানো ব্যক্তিদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং যাচাই শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশের সাইবার ইউনিট নিয়মিত উগ্রবাদী কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ করছে এবং কোথাও সহিংসতা বা উগ্রপন্থার ইঙ্গিত মিললে তদন্ত করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মের নামে বিভাজন ও সহিংসতার ভাষা শুধু সামাজিক সম্প্রীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও দীর্ঘমেয়াদে হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.