এআই চিপের জোয়ারে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে স্যামসাং
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির মধ্যেই প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য অতিক্রম করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং।
বুধবার (৬ মে) সিউল শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের বড় উল্লম্ফনের পর এই মাইলফলক স্পর্শ করে কোম্পানিটি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সিউল স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের সময় স্যামসাংয়ের বাজারমূল্য প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ওন বা ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে যায়। এর ফলে তাইওয়ানের টিএসএমসি-এর পর দ্বিতীয় এশীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই ক্লাবে প্রবেশ করল স্যামসাং।
বুধবার সকালে স্যামসাংয়ের শেয়ারদর প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার আরেক চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স-এর শেয়ারও ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।
এর প্রভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ারবাজার সূচক ‘কোসপি’ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করে। বিশ্লেষকদের মতে, এআইভিত্তিক প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিই এই উল্লম্ফনের মূল কারণ।
বিশ্বের বৃহত্তম মেমোরি চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্যামসাং বর্তমানে এআই অবকাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতার মেমোরি চিপ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি (এইচবিএম) চিপের চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ায় কোম্পানিটির আয় ও বাজারমূল্য দ্রুত বেড়েছে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে স্যামসাং জানায়, তাদের পরিচালন মুনাফা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৫০ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৫৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ওনে পৌঁছেছে। এর প্রায় ৯৪ শতাংশই এসেছে চিপ বিভাগ থেকে।
স্যামসাংয়ের এক কর্মকর্তা বিনিয়োগকারীদের জানান, বর্তমানে গ্রাহকদের চাহিদার তুলনায় কোম্পানির চিপ সরবরাহ “অনেক কম” এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।
এদিকে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপল ভবিষ্যতে নিজেদের ডিভাইসের প্রসেসর উৎপাদনে স্যামসাংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে এখন বৈশ্বিক প্রযুক্তি বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সেই প্রতিযোগিতায় মেমোরি চিপ উৎপাদনে শক্ত অবস্থানের কারণে স্যামসাং বড় সুবিধা পাচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, চিপ সরবরাহ সংকট ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মতো ঝুঁকি ভবিষ্যতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্যামসাং বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় শীর্ষ পর্যায়ে অবস্থান করছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে এককভাবে সবচেয়ে বড় প্রভাব বিস্তারকারী কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.