যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী হামলা বাড়ায় দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার নির্দেশ

প্রকাশিত: ০৬ মে, ২০২৬ ০৪:৫৯ (মঙ্গলবার)
যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী হামলা বাড়ায় দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার নির্দেশ

সাম্প্রতিক ইহুদিবিদ্বেষী হামলা ও সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনায় ঘৃণাজনিত অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যুক্তরাজ্যে।

মঙ্গলবার (৫ মে) ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রসিকিউটরদের এ নির্দেশ দেন দেশটির ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের প্রধান স্টিফেন পারকিনসন।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টিফেন পারকিনসন বলেন, ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই ভয়ভীতি ও ঘৃণামূলক ঘটনার অভিযোগ আসছে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, “ইহুদি সম্প্রদায়ের জন্য এটি সংকটের সময়। তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সক্রিয় হওয়া জরুরি।”

এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার ঘটনা বড় ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় দুই ইহুদি ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এছাড়া ইহুদি অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

তবে পারকিনসন স্পষ্ট করেন, নতুন নির্দেশনা শুধু ইহুদিবিদ্বেষী অপরাধ নয়, সব ধরনের ঘৃণাজনিত অপরাধের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। যদিও ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার “উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি” পাওয়ায় এখনই এ ঘোষণা দেওয়া প্রয়োজন হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে “নিখুঁত মামলা” তৈরির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হাতে এলেই দ্রুত চার্জ গঠন করতে হবে। পরে প্রয়োজন হলে মামলাকে আরও শক্তিশালী করা যাবে।

তার মতে, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে এবং অপরাধও কমাবে।

স্টিফেন পারকিনসন ২০২৪ সালের সাউথপোর্ট হামলার পর যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গার উদাহরণ টেনে বলেন, তখন পুলিশ, প্রসিকিউটর ও আদালত দ্রুত একসঙ্গে কাজ করায় সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০টি সন্দেহভাজন ঘৃণাজনিত অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে এর মধ্যে ১০ শতাংশেরও কম ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পারকিনসন বলেন, অনেক ভুক্তভোগী বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও ফলাফল নিয়ে আস্থাহীনতার কারণে মাঝপথে মামলা চালিয়ে যেতে চান না।

তিনি আরও জানান, পুলিশকে দ্রুত প্রমাণ সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পুরো বিচার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করা যায়।

পারকিনসনের দাবি, বড় ধরনের ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা ঘটার পর সাধারণত এ ধরনের অপরাধ আরও বেড়ে যায়। একইসঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধেও ঘৃণাজনিত অপরাধ বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন আলাদাভাবে ইহুদিবিদ্বেষী ও ইসলামবিদ্বেষী অপরাধের তথ্য সংরক্ষণ করছে, যাতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা যায়।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.