বিশ্বজুড়ে আলোচনায় হান্টাভাইরাস
আটলান্টিক মহাসাগরে একটি ক্রুজ জাহাজে রহস্যজনক অসুস্থতায় তিনজনের মৃত্যুর পর নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে ‘হান্টাভাইরাস’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, জাহাজটিতে এখন পর্যন্ত সাতজন আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের শরীরে পরীক্ষায় হান্টাভাইরাস নিশ্চিত হয়েছে।
৪ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, নেদারল্যান্ডসের পতাকাবাহী ক্রুজ জাহাজ এমভি হন্ডিয়াসে থাকা ১৪৭ জন যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে সংক্রমণের এই ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং একজন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, মৃতদের মধ্যে নেদারল্যান্ডসের এক দম্পতি ও এক জার্মান নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া এক ব্রিটিশ নাগরিক দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় আছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, জাহাজটি বর্তমানে কেপ ভার্দের উপকূলে অবস্থান করছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় যাত্রীদের নামতে দেওয়া হয়নি এবং তাদের আলাদা করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মল, মূত্র বা লালার মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। আক্রান্ত পরিবেশের বাতাসের সঙ্গে ভাইরাস শরীরে ঢুকে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে কামড় বা আঁচড় থেকেও সংক্রমণ হতে পারে।
রোগটির প্রাথমিক উপসর্গ সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো। শুরুতে জ্বর, শরীরব্যথা, ক্লান্তি বা পেটের সমস্যা দেখা দিলেও পরে তা দ্রুত নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের জটিলতায় রূপ নিতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম নামে পরিচিত গুরুতর অবস্থায় মৃত্যুহার প্রায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এছাড়া ভাইরাসটির আরেকটি ধরন কিডনিকে আক্রান্ত করে। এতে হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং কিডনি বিকলের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে এই ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা টিকা নেই। আক্রান্তদের উপসর্গ অনুযায়ী অক্সিজেন, ভেন্টিলেশন ও প্রয়োজন হলে ডায়ালাইসিসসহ সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর রোগীদের আইসিইউতে রাখতে হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম হলেও ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জাহাজের মতো সীমিত পরিবেশে সংক্রমণের ধরন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, দক্ষিণ আমেরিকায় পাওয়া ‘অ্যান্ডিস’ ধরনের হান্টাভাইরাসের সঙ্গে এই সংক্রমণের সম্পর্ক থাকতে পারে। এ ধরনের ভাইরাস বিরল হলেও কিছু ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর নজির রয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজটিকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো যৌথভাবে সংক্রমণের উৎস ও বিস্তারের ধরন অনুসন্ধান করছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.