চলচ্চিত্রের সুপারস্টার থেকে তামিলনাড়ুর রাজনীতির হিরো থালাপতি বিজয়
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা থালাপতি বিজয় এবার রাজনীতির ময়দানে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছেন। ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে তার দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৭টিতে জয় পেয়েছে, যা তাকে রাজ্যের সবচেয়ে বড় একক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
যদিও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ আসন, তবুও বিজয়ের এই ফলাফল তাকে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। জোট গঠনের মাধ্যমে সরকার গঠনের সম্ভাবনাও এখন উন্মুক্ত।
তারকা থেকে বাস্তব রাজনীতির খেলোয়াড়
থালাপতি বিজয়ের আসল নাম জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে তিনি খুব অল্প সময়েই রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
২০২৪ সালে দল গঠনের মাত্র দুই বছরের মধ্যেই এই সাফল্য বিশ্লেষকদের চোখে “অভূতপূর্ব”। কারণ, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এত দ্রুত উত্থান আগে খুব কমই দেখা গেছে।
কীভাবে তৈরি হলো এই শক্তি
বিজয়ের রাজনৈতিক ভিত্তি হঠাৎ তৈরি হয়নি। ২০০৯ সালে তিনি ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলেন।
এই সংগঠন—
ত্রাণ কার্যক্রম শিক্ষাসহায়তা স্থানীয় সমস্যার সমাধানএর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করে। পরে সেটিই রাজনৈতিক কাঠামোয় রূপ নেয়।
২০২১ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই সংগঠনের প্রার্থীদের জয়ই ছিল বড় টার্নিং পয়েন্ট।
রাজনৈতিক অবস্থান ও জনপ্রিয়তা
বিজয় শুধু জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবেই থাকেননি, বরং ধীরে ধীরে রাজনৈতিক কণ্ঠ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
তিনি বিভিন্ন সময়ে—
বেকারত্ব দুর্নীতি শিক্ষা সংকট কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনানিয়ে সরব ছিলেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীতির সমালোচনায় তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
এককভাবে নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত
দল গঠনের সময়ই বিজয় ঘোষণা দেন—
কোনো জোট নয় এককভাবে নির্বাচন ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে বিকল্প রাজনীতিএই কৌশলই তাকে আলাদা করে তুলেছে।
সিনেমা ছেড়ে পুরো সময় রাজনীতিতে
রাজনীতিতে প্রবেশের পর বিজয় তার প্রায় তিন দশকের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার থেকে সরে দাঁড়ান। প্রায় ৭০টি সিনেমায় অভিনয় করা এই তারকার জন্য এটি বড় সিদ্ধান্ত ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত তার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়িয়েছে।
সরকার গঠনের সমীকরণ
বর্তমান ফলাফলে—
টিভিকে: ১০৭ আসন প্রয়োজন: ১১৮ আসনঅর্থাৎ, সরকার গঠনে বিজয়কে অন্য দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন হবে।
যদি তিনি সরকার গঠন করতে পারেন, তবে ৪৯ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তামিলনাড়ুতে একজন চলচ্চিত্র তারকা সরাসরি নতুন দল গড়ে মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন। সর্বশেষ ১৯৭৭ সালে এম.জি. রামাচন্দ্রন এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন।
চ্যালেঞ্জও কম নয়
বিজয়ের যাত্রা পুরোপুরি মসৃণ ছিল না। ২০২৫ সালে একটি দলীয় অনুষ্ঠানে পদদলনে মৃত্যুর ঘটনা তার সংগঠনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
তবে তার সংযত প্রতিক্রিয়া ও দায় স্বীকার নেতৃত্বের পরিপক্বতার ইঙ্গিত দেয়।
নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা
এই নির্বাচনের মাধ্যমে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখন তিনটি বড় শক্তি—
ডিএমকে এআইএডিএমকে টিভিকে (বিজয়)বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে দিয়েছে।
থালাপতি বিজয়ের এই উত্থান শুধু একজন তারকার সাফল্য নয়, বরং এটি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
তিনি সরকার গঠন করুন বা না করুন—
একটি বিষয় এখন পরিষ্কার:
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়ে গেছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.