আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার কঠোর ও আইনানুগ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বলপ্রয়োগ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’র বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। অতীতে প্রাপ্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পুনর্গঠন ও সুশৃঙ্খল করতে কিছুটা সময় লাগলেও সরকার সঠিক দিকেই এগোচ্ছে।
পুলিশ প্রশাসনে সাম্প্রতিক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো রাজনৈতিক নয়; বরং নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি কিংবা শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা—সবই আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হচ্ছে।
বাধ্যতামূলক অবসরের বিষয়ে তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অবিচার না ঘটে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্ত হওয়া অপরাধীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামিন দেওয়া আদালতের বিষয় হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব চিহ্নিত ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে, যাতে তারা পুনরায় কোনো ধরনের অপরাধে জড়াতে না পারে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হত্যাসহ যে কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।
এ সময় তিনি আরও জানান, ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মাদক ব্যবসার মূল হোতা ও সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানে জড়িত বড় সিন্ডিকেটগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।”
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.