রাজনৈতিক মামলায় সাংবাদিক নির্যাতন ও কারাবাস নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশিত: ০৪ মে, ২০২৬ ০৬:২২ (শনিবার)
রাজনৈতিক মামলায় সাংবাদিক নির্যাতন ও কারাবাস নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

দেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার এবং দীর্ঘদিন কারাবাসের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অনেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকও আইনি জটিলতায় পড়ে কারাগারে গেছেন বা এখনও বন্দী রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, কারাবন্দী ও গ্রেপ্তার হওয়া উল্লেখযোগ্য সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক ফারজানা রুপা। এছাড়া গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন বা আছেন একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের তালিকায় রয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ। একইসঙ্গে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার হন মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার বা মামলার মুখোমুখি হয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর, আরিফ হাসান, শেখ জামালসহ আরও অনেকে। এদের মধ্যে কেউ কেউ জামিন পেলেও অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সময়, স্থান ও ঘটনার সঙ্গে অসামঞ্জস্য দেখা গেলেও তাদের আসামি করা হয়েছে। যেমন—একাত্তর টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহনাজ শারমীনের বিরুদ্ধে এমন একটি মামলা হয়েছে যেখানে তিনি ঘটনার সময় অন্য স্থানে লাইভ সম্প্রচারে ছিলেন বলে প্রমাণ রয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যে উঠে এসেছে, গত কয়েক বছরে শতাধিক সাংবাদিক নির্যাতন, হয়রানি বা আইনি জটিলতার শিকার হয়েছেন। কয়েকজন সাংবাদিকের মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় এসেছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

আইনজীবী ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বিনা বিচারে কারাগারে থাকা বা বারবার জামিন না পাওয়া বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সংবেদনশীল মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অতীত ও বর্তমান—দুই সময়েই সাংবাদিকদের ওপর চাপের ঘটনা সামনে এসেছে। তাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইনি প্রক্রিয়া এবং সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা জরুরি।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.