জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহার কেন তার ব্যাখ্যা চায় ন্যাটো

প্রকাশিত: ০৩ মে, ২০২৬ ০৫:৩৩ (শনিবার)
জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহার কেন তার ব্যাখ্যা চায় ন্যাটো

জার্মানি থেকে পাঁচ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে “আগেই অনুমানযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়াস। একই সময়ে এ সিদ্ধান্তের বিস্তারিত জানতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করছে সামরিক জোট ন্যাটো।

জার্মান সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিস্টোরিয়াস বলেন, ইউরোপে, বিশেষ করে জার্মানিতে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি উভয় দেশের স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে তিনি অপ্রত্যাশিত হিসেবে দেখছেন না।

বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৬ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি। এর তুলনায় ইতালি ও যুক্তরাজ্যে যথাক্রমে প্রায় ১২ হাজার ও ১০ হাজার সেনা রয়েছে।

এদিকে ন্যাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বুঝতে কাজ করছে। জোটের মুখপাত্র বলেন, এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের জন্য নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, শুধু জার্মানি নয়—ইউরোপের আরও দেশ থেকেও সেনা কমানো হতে পারে। এমনকি তিনি পাঁচ হাজারের বেশি সেনা প্রত্যাহারের কথাও বলেছেন, যদিও বিস্তারিত কিছু জানাননি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে ইউরোপের বদলে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আগে রোমানিয়া থেকেও সেনা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ওয়াশিংটন।

তবে এ সিদ্ধান্তে ন্যাটোর ভেতরে উদ্বেগ বাড়ছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সতর্ক করে বলেছেন, জোটের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ইউরোপে শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই প্রয়োজন।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এবং ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে সাম্প্রতিক বাকযুদ্ধের পরই এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। ইরান ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান নিয়ে মতবিরোধও এতে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পেন্টাগন জানিয়েছে, আগামী ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হতে পারে। ফলে ইউরোপের নিরাপত্তা ও ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.