কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রঘু রায়ের বিদায়, ছবির ভেতরেই বেঁচে থাকবেন তিনি

প্রকাশিত: ০৩ মে, ২০২৬ ০৫:২৮ (মঙ্গলবার)
কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রঘু রায়ের বিদায়, ছবির ভেতরেই বেঁচে থাকবেন তিনি

ভারতের কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রঘু রায় আর নেই। ৮৩ বছর বয়সে তার মৃত্যুতে দেশ-বিদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ক্যামেরার মাধ্যমে যে ভারতকে তুলে ধরেছেন, তা শুধু ছবি নয়—একটি সময়, সমাজ ও ইতিহাসের জীবন্ত দলিল হয়ে আছে।

রঘু রায় তার ক্যারিয়ারে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন—সবকিছুই অসাধারণ সংবেদনশীলতা ও গভীরতায় ধারণ করেছেন। বিশেষ করে ভোপালের গ্যাস দুর্ঘটনা কিংবা আশির দশকের পাঞ্জাবের সহিংস সময়—এসব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ছবি ভারতের ইতিহাসকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ করে দেয়।

তার তোলা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী-এর বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি আজও রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিজ্যুয়াল দলিল হিসেবে বিবেচিত। তিনি কেবল ঘটনাই ধারণ করেননি, বরং সেই ঘটনাকে মানুষের অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

১৯৬৬ সালে দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকায় কাজের মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয়। পরে তিনি ইন্ডিয়া টুডে ও সানডে ম্যাগাজিনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৭ সালে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংস্থা ম্যাগনাম ফটোস-এ যোগ দিয়ে তিনি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেন। এই যাত্রায় তাকে অনুপ্রাণিত করেন ফরাসি কিংবদন্তি আলোকচিত্রী অঁরি কার্তিয়ে-ব্রেসোঁ।

রঘু রায়ের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে শুধু রাজনীতি নয়, সংস্কৃতি ও শিল্পের নানা দিকও। সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর, চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়, চিত্রশিল্পী এম এফ হুসেন কিংবা অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন—সবার মধ্যেই তিনি শিল্প ও মানুষের এক অনন্য সম্পর্ক ফুটিয়ে তুলেছেন।

ফটোগ্রাফি সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিও ছিল আলাদা। তিনি বিশ্বাস করতেন, ছবি তোলা কেবল প্রযুক্তি নয়, এটি এক ধরনের আত্মিক সংযোগ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমি আমার ক্যামেরার মধ্য দিয়েই সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করি।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রঘু রায়কে স্মরণ করে তাকে “সৃজনশীলতার এক মহীরুহ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, রঘু রায়ের ছবি ভারতের প্রাণচাঞ্চল্য, বৈচিত্র্য ও গভীরতাকে অসাধারণভাবে তুলে ধরেছে।

রঘু রায়ের কাজ শুধু সংবাদচিত্র নয়, শিল্প ও বাস্তবতার এক অনন্য মেলবন্ধন। তার রেখে যাওয়া বিশাল আলোকচিত্র ভান্ডার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হয়ে থাকবে এক অমূল্য সম্পদ—যেখানে একটি দেশের গল্প, তার মানুষ আর তাদের সংগ্রাম ধরা আছে এক মানবিক দৃষ্টিতে।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.