মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারে না
জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ পরিবার ও স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, “মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলাম করতে পারে না। কোনও শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে সেটা ডাবল অপরাধ।”
মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া তার এ বক্তব্যে পুরো সংসদে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শহীদের আত্মত্যাগ এবং যুদ্ধাপরাধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন, এটিই সত্য। এই সত্যকে কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।”
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বক্তব্যে ফজলুর রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার তুলনা হতে পারে না। এটি ছিল জাতির অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারা রাজনৈতিকভাবেও কখনও জনগণের হৃদয় জয় করতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ শুধু ফুলের দেশ নয়, এই দেশের মাটিতে রয়েল বেঙ্গল টাইগারও আছে। যতদিন মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনা থাকবে, ততদিন রাজাকারদের পরাজয় হবেই।”
বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানালেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, “আমি সত্য কথাই বলেছি। শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করলে সেটা ইতিহাস ও আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।”
সংসদে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, “আমি যুদ্ধ করেছি, আমি নিজের চোখে দেশকে স্বাধীন হতে দেখেছি। তাই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো অপপ্রচার মেনে নেওয়া যায় না।”
এ সময় সংসদে হট্টগোল সৃষ্টি হলে স্পিকার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এটি জাতীয় সংসদ। এখানে প্রত্যেক সদস্যের বক্তব্য রাখার অধিকার আছে।”
ফজলুর রহমানের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার বক্তব্যকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে সাহসী অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করছেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.