ওপেক ছাড়ল আমিরাত, চাপে সৌদি জোট
বিশ্বের প্রভাবশালী তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার দেশটির এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ওপেক জোটের জন্য বড় ধাক্কা, বিশেষ করে ডি-ফ্যাক্টো নেতৃত্বে থাকা সৌদি আরব-এর জন্য।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এলো।
বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়া ওপেক ও ওপেক প্লাসের ভেতরে বিভক্তি আরও বাড়াতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ভূরাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও সদস্য দেশগুলো সাধারণত জোটের ঐক্য বজায় রেখেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ঐক্যে বড় ফাটল দেখা দিল।
এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর জন্য কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করে আসছিলেন, ওপেক জোট ইচ্ছাকৃতভাবে তেলের দাম বাড়িয়ে বৈশ্বিক বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখছে, তখন সেই সুযোগে তেলের দাম বাড়িয়ে মুনাফা নিচ্ছে ওপেকভুক্ত দেশগুলো।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সময় আমিরাত অভিযোগ তোলে, দেশটির ওপর হামলা হলেও আরব মিত্রদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা পায়নি তারা। এই ক্ষোভ থেকেই আবুধাবি জোট দুটি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার এক সম্মেলনে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাস আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর কড়া সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো লজিস্টিক সহায়তা দিলেও রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান ছিল অত্যন্ত দুর্বল। আরব লীগের ভূমিকা নিয়ে হতাশ না হলেও গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত দেশগুলোর অবস্থান তাকে বিস্মিত করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত শুধু জ্বালানি বাজারেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক জোট ও আঞ্চলিক কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.