কাস্টমস কর্মকর্তার মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন, আটক ৫
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে র্যাব। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি পূর্বপরিকল্পিত ছিনতাইয়ের ঘটনা; অস্ত্রের মুখে সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়ার পর চলন্ত অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়।
সোমবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন— মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, ইমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল ও সুজন।
র্যাব জানায়, ঘটনার রাতে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা অটোরিকশা নিয়ে কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় অবস্থান করছিল। ভোররাতের দিকে চট্টগ্রাম থেকে আসা বাস থেকে নামার পর বুলেট বৈরাগীকে কৌশলে অটোরিকশায় তোলা হয়। এরপর যাত্রীবেশে থাকা সোহাগ ও হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়।
একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। তখন ইসমাইল হোসেন জনি ছুরি বের করে ভয় দেখায় এবং তাকে মারধর করে। পরে কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত অটোরিকশা থেকে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পালিয়ে যায় তারা।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, প্রথমে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং পরে সড়কে পড়ে মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত পাওয়ার কারণেই বুলেট বৈরাগীর মৃত্যু হয়েছে। সুজনের কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন ৩৫ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা। পরদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বুলেট বৈরাগী কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন। তিনি ৪১তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদে চাকরিতে যোগ দেন।
ঘটনার পর তার মা নীলিমা বৈরাগী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া সবাই পেশাদার ছিনতাইকারী এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের পরিবার জানায়, সর্বশেষ রাতে তিনি ফোন করে কুমিল্লা শহরের টমসন ব্রিজ এলাকায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছিলেন। তবে এরপর তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না পেয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা বুলেট বৈরাগী কর্মসূত্রে কুমিল্লা শহরে পরিবারসহ বসবাস করতেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.