‘প্রকৃত সাংবাদিক’ নির্ধারণে জাতীয় ডাটাবেজ—মানোন্নয়ন নাকি নিয়ন্ত্রণ?
দেশে সাংবাদিকদের একটি জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির সরকারি উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সরকার বলছে, ভুয়া সাংবাদিকতা রোধ ও পেশার মানোন্নয়নে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ মনে করছে, এটি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের পথও খুলে দিতে পারে।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল-এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের একটি যাচাইযোগ্য অনলাইন ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এতে সাংবাদিকদের পরিচয়, পেশাগত তথ্য ও নির্দিষ্ট মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
কেন এই উদ্যোগ?
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমানে সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ বাড়ছে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে প্রেস কার্ড ব্যবহার করে প্রভাব খাটানো, চাঁদাবাজি এবং অনিবন্ধিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিস্তার প্রশাসন ও গণমাধ্যম উভয়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকলে প্রকৃত সংবাদকর্মীদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং পেশার মর্যাদা রক্ষা পাবে বলে মনে করছে সরকার।
কী থাকবে এই ডাটাবেজে?
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্ভাব্য মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে—
বৈধ প্রেস কার্ড স্বীকৃত গণমাধ্যমে নিয়োগ সম্পাদকীয় কাঠামোর অধীনে কাজ মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা পেশাগত নীতিমালা অনুসরণতবে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হবে কিনা, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি।
সমর্থন ও উদ্বেগ
গণমাধ্যমের একটি অংশ এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ পরিচয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। একটি নির্ভরযোগ্য তালিকা থাকলে পেশার স্বচ্ছতা বাড়বে।
অন্যদিকে, অনেক সাংবাদিক আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন—‘প্রকৃত সাংবাদিক’ নির্ধারণের ক্ষমতা যদি পুরোপুরি সরকারের হাতে থাকে, তাহলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
পুরনো আলোচনার নতুন রূপ
সাংবাদিকদের ডাটাবেজ তৈরির বিষয়টি নতুন নয়। অতীতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ উদ্যোগ নিলেও তা পূর্ণতা পায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাংবাদিকতা একটি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতানির্ভর পেশা। তাই শুধুমাত্র একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে ‘প্রকৃত সাংবাদিক’ নির্ধারণ করা হলে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
সামনে কী?
বিশ্লেষকদের মতে, ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ সফল করতে হলে সরকার, সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি। স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় এটি বাস্তবায়ন করা গেলে পেশার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে—অন্যথায় এটি নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.