ভারত থেকে এলো আরও ৫ হাজার টন জ্বালানি তেল
ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে আবারও বড় চালানে জ্বালানি তেল এসেছে। সর্বশেষ চালানে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রিসিভ টার্মিনালে পৌঁছেছে, যা উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল আনা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় পাম্পিং কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর রোববার সকালে তেলটি পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
চলতি এপ্রিল মাসেই এটি দ্বিতীয় বড় চালান। এর আগে ১১ এপ্রিল প্রায় ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে আসে। সব মিলিয়ে এ মাসে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আনার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে। এর আগে মার্চ মাস পর্যন্ত চারটি চালানে এসেছে প্রায় ২২ হাজার মেট্রিক টন।
পার্বতীপুরে পৌঁছানোর পর এই জ্বালানি তেল পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পাইপলাইন চালুর ফলে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ অনেক সহজ হয়েছে। আগে চট্টগ্রাম বা খুলনা থেকে রেলপথে তেল আনতে সময় লাগত ৬ থেকে ৭ দিন। এখন পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত ও কম খরচে সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন প্রকল্পের আওতায় ১৩১ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এই পাইপলাইন নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। ২০২৩ সালের মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি শুরু হয়।
দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছর ভারত থেকে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত ডিজেল আমদানি করা হবে। বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আনার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী তা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে এই পাইপলাইন প্রকল্প দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.