আমরা মনে মনে যা চিন্তা করি তার বিজ্ঞাপন কেন সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে আসে?
ডিজিটাল দুনিয়ায় অনেকেরই পরিচিত অভিজ্ঞতা—মনে মনে কোনো বিষয় নিয়ে ভাবছেন, কিন্তু তা কাউকে বলেননি বা কোথাও খুঁজেও দেখেননি; এরপরই হঠাৎ সেই বিষয় সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন সামনে চলে আসে। বিষয়টি অনেকের কাছে রহস্যময় মনে হলেও, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর পেছনে রয়েছে উন্নত ডেটা বিশ্লেষণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মনের কথা সরাসরি পড়ার মতো প্রযুক্তি এখনো বাস্তবে নেই। তবে অনলাইনে একজন ব্যবহারকারীর প্রতিটি আচরণ—কোন ওয়েবসাইটে ঢুকছেন, কোথায় ক্লিক করছেন, কোন ভিডিও কতক্ষণ দেখছেন—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তার আগ্রহ সম্পর্কে অত্যন্ত নির্ভুল ধারণা তৈরি করা সম্ভব।
বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যেমন গুগল ও মেটা এই তথ্য ব্যবহার করে ব্যক্তিগতকৃত বিজ্ঞাপন দেখায়। ফলে ব্যবহারকারী সরাসরি কিছু সার্চ না করলেও, তার আচরণের সঙ্গে মিল রেখে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়।
এ ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তিগত তথ্যই নয়, একই ধরনের ব্যবহারকারীদের ডেটাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যাদের বয়স, অবস্থান, আগ্রহ বা অনলাইন আচরণ কাছাকাছি—তাদের একটি গ্রুপ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘লুকঅ্যালাইক অডিয়েন্স’, যার মাধ্যমে অনুমান করা হয় একজন ব্যবহারকারী পরবর্তীতে কী পছন্দ করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অনেক সময় খুব ছোট ছোট সংকেত—যেমন একটি পোস্টে কয়েক সেকেন্ড বেশি সময় থাকা বা একটি ভিডিও অর্ধেক দেখে থেমে যাওয়া—এসবই অ্যালগরিদমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এমনকি অবস্থান, কেনাকাটার অভ্যাস বা অ্যাপ ব্যবহারের তথ্যও বিজ্ঞাপন নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ধরনের অভিজ্ঞতার কারণে অনেকের ধারণা, স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর কথা শুনছে। তবে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আচরণভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ এতটাই উন্নত হয়েছে যে, তা অনেক সময় মানুষের চিন্তার কাছাকাছি ফলাফল দিতে পারে।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কাকতালীয় নয়; বরং ব্যবহারকারীর অজান্তে জমা হওয়া বিপুল ডেটা ও তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি পূর্বাভাসের ফল। ডিজিটাল যুগে তাই প্রতিটি ক্লিক, প্রতিটি থেমে থাকা—সবই হয়ে উঠছে মূল্যবান তথ্য, যা নির্ধারণ করছে আমরা কী দেখব, আর কী দেখব না।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.