হরমুজ পারাপারে আইআরজিসি’র ৪ শর্ত আরোপ
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে চারটি কঠোর শর্ত জারি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।
আইআরজিসি নৌবাহিনীর ঘোষিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অনুমোদিত হলেও তা নির্দিষ্ট শর্ত মানার বাধ্যবাধকতার মধ্যে থাকবে। শর্তগুলোকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
আইআরজিসি’র ঘোষিত ৪ শর্ত
আইআরজিসি নৌবাহিনীর নির্দেশনা অনুযায়ী—
১. নির্ধারিত রুট ব্যবহার:
বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে শুধু ইরান নির্ধারিত রুট অনুসরণ করে চলাচল করতে হবে।
২. সামরিক জাহাজ নিষিদ্ধ:
হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো ধরনের যুদ্ধজাহাজ বা সামরিক নৌযান চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
৩. পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক:
প্রণালি অতিক্রমের আগে প্রতিটি জাহাজকে আইআরজিসি নৌ শাখার অনুমতি নিতে হবে।
৪. যুদ্ধবিরতির শর্তসাপেক্ষ:
এই নিয়মগুলো চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর এই ঘোষণা এলেও ইরান স্পষ্ট করেছে যে হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিরাপত্তা ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ থাকলেও তা কঠোর তদারকির আওতায় থাকবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমায় হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও দেশটির ওপর বিদ্যমান নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হওয়ায় নতুন এই শর্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.