রাষ্ট্রদূতের নিরাপত্তা যাচাইয়ে ব্যর্থতার কথা জানতেন না কিয়ার স্টারমার

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০৮ (শুক্রবার)
রাষ্ট্রদূতের নিরাপত্তা যাচাইয়ে ব্যর্থতার কথা জানতেন না কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়া লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন নিরাপত্তা যাচাইয়ে ব্যর্থ হয়েছেন—এ তথ্য তিনি সম্প্রতি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সরকারের এক মুখপাত্র জানান, নিরাপত্তা সংস্থার আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ম্যান্ডেলসনকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রী আগে অবগত ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়। বিষয়টি জানার পরপরই প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে পুরো ঘটনার তদন্ত করে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে পরে জানা যায়, নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ায় তিনি অনুমোদন পাননি, যা পরবর্তীতে প্রশাসনিকভাবে উপেক্ষা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অতীতে পার্লামেন্টে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় “পূর্ণাঙ্গ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে” বলে একাধিকবার দাবি করেছিলেন। এই প্রেক্ষিতে বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তুলেছে, তিনি সংসদকে বিভ্রান্ত করেছেন। যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীদের আচরণবিধি অনুযায়ী, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদকে ভুল তথ্য দিলে পদত্যাগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বাডেনক প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তিনি হয় বিষয়টি জানতেন এবং মিথ্যা বলেছেন, নয়তো জানতেন না—যা তার অযোগ্যতা প্রমাণ করে।” একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লিবারেল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন পার্টি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলও।

অন্যদিকে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি এ ঘটনায় তদন্ত দাবি করে স্বাধীন উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়েছে। তারা জানতে চায়, প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদকে বিভ্রান্ত করেছেন কি না।

এদিকে পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এমিলি থর্নবেরি অভিযোগ করেছেন, এ বিষয়ে আগেই সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, তদন্ত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হয়েছে, যা সংসদের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।

জানা গেছে, নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির আর্থিক অবস্থা, অতীত কর্মকাণ্ড, সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত জীবনসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হলো সংবেদনশীল তথ্যের অপব্যবহার বা ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকি আছে কি না তা নির্ধারণ করা।

এদিকে ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এ কারণে আগেও তার নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল।

সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দ্রুত সংসদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যেসব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়, সেগুলো সংসদের সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।

সব মিলিয়ে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে চাপ বাড়ছে এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তিনি আগামী সোমবার পার্লামেন্টে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে পারেন বলে জানা গেছে।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.