জুলাই সনদ ইস্যুতে রাজনীতিতে বিরোধ বাড়ছে

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:২৪ (বৃহস্পতিবার)
জুলাই সনদ ইস্যুতে রাজনীতিতে বিরোধ বাড়ছে

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন এখন সংসদ থেকে রাজপথে ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে সরকার সংবিধান সংশোধনের পথে এগোতে চায়, অন্যদিকে বিরোধী দল সরাসরি সংবিধান সংস্কারের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে।

সংসদে আলোচনার পাশাপাশি মাঠের রাজনীতিতেও সক্রিয় হয়েছে বিরোধী জোট। প্রধান বিরোধী দলসহ ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও সেমিনারের মাধ্যমে তাদের অবস্থান তুলে ধরছে। তাদের অভিযোগ, সরকার জুলাই সনদের মূল চেতনাকে পাশ কাটিয়ে আংশিক বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। এ কারণে তারা সংসদের পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন জোরদারের কৌশল নিয়েছে এবং দাবি আদায় না হলে তা আরও বৃহৎ আকার ধারণ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য ভিন্ন বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছেন, জুলাই সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই সরকার দায়িত্ব পালন করছে এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে। তবে এই আশ্বাসে আস্থা রাখতে নারাজ বিরোধী দল, তাদের মতে বাস্তব পদক্ষেপেই সরকারের আন্তরিকতা প্রমাণ করতে হবে।

সংকটের সূত্রপাত ঘটে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ এবং পরবর্তী গণভোটকে ঘিরে। গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন এলেও সংসদ সদস্যদের শপথের দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিরোধী সদস্যরা শপথ নিলেও সরকারি দলের সদস্যরা তা সংবিধানবহির্ভূত বলে প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর থেকেই দুই পক্ষের অবস্থান আরও দূরে সরে যায়।

এর মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত হলেও আওয়ামী লীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিগুলো জুলাই সনদকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এই সনদের কিছু প্রস্তাব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে তারা এ সনদকে মেনে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না বলে অবস্থান জানিয়েছে। এতে করে রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর হয়েছে এবং ইস্যুটি শুধু সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না।

বিরোধী দলের অভিযোগ, সরকার উচ্চকক্ষ গঠন ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এড়িয়ে যেতে চাইছে। অন্যদিকে সরকারপক্ষ বলছে, সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতর থেকেই ধাপে ধাপে সংস্কার সম্ভব এবং সেটিই বাস্তবসম্মত পথ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল বিরোধটি কেবল আইনি বা সাংবিধানিক নয়, বরং ক্ষমতার ভারসাম্য, রাষ্ট্রের কাঠামো এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ব্যাখ্যা নিয়েও বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। একদিকে বিরোধী জোট দ্রুত পূর্ণ বাস্তবায়ন চায়, অন্যদিকে সরকার ধীরগতির প্রক্রিয়ায় এগোতে চায়, আর আওয়ামী লীগসহ একটি বড় রাজনৈতিক ধারাই পুরো সনদের বিরোধিতা করছে।

এই অবস্থায় সমঝোতার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত না থাকায় রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংসদে আলোচনা ও রাজপথের কর্মসূচি সমান্তরালে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.