বাবা-মা ও সংস্থার ‘ব্যর্থতায়’ এড়ানো যায়নি হামলা—তদন্ত প্রতিবেদন
যুক্তরাজ্যের সাউথপোর্ট-এ ২০২৪ সালের ভয়াবহ শিশু হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে একটি সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীর বাবা-মা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ‘গুরুতর ব্যর্থতা’র কারণে একাধিক সতর্ক সংকেত থাকা সত্ত্বেও হামলা ঠেকানো যায়নি।
তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান স্যার অ্যাড্রিয়ান ফুলফোর্ড বলেন, ১৭ বছর বয়সী হামলাকারী অ্যাক্সেল রুডাকুবানা-কে আগেই আটক করা হলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতো না। বিশেষ করে তার বাবা-মা যদি সন্দেহজনক আচরণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানাতেন, তাহলে সে হামলার দিন মুক্ত অবস্থায় থাকত না।
২০২৪ সালের ২৯ জুলাই হার্ট স্পেস ডান্স স্টুডিও-তে একটি নাচের ক্লাসে ঢুকে ছুরিকাঘাতে তিন শিশুকে হত্যা করে সে। নিহতরা হলো—৬ বছর বয়সী বেবে কিং, ৭ বছর বয়সী এলসি ডট স্ট্যানকম্ব এবং ৯ বছর বয়সী অ্যালিস দা সিলভা আগুইয়ার। এছাড়া আরও আট শিশু ও দুই প্রাপ্তবয়স্ক গুরুতর আহত হন।
৭৬০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল মারাত্মক। পুলিশ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সেবা ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মসূচি প্রিভেন্ট—সবখানেই দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীর সহিংস আচরণ, একাকীত্ব এবং অনলাইন কার্যক্রম নিয়ে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তার অটিজমকে অনেক ক্ষেত্রে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা তার ঝুঁকি মূল্যায়নে বাধা সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ করে ২০২২ সালে একটি ঘটনায় ছুরি হাতে ধরা পড়ার পরও তাকে গ্রেপ্তার না করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যা তদন্ত অনুযায়ী একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার উদাহরণ।
এ ঘটনায় ল্যাঙ্কাশায়ার পুলিশ তাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে হামলাকারীর বাবার ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করা হয়। বলা হয়, তিনি তার ছেলের কাছে বিপজ্জনক অস্ত্র ও রাসায়নিক পদার্থ থাকার তথ্য গোপন করেছিলেন। যদিও তদন্তে স্বীকার করা হয়েছে, পরিবারটির জন্য পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত কঠিন।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় আইন ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও বলেছেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৌলিক পরিবর্তন আনা হবে।
প্রতিবেদনে ৬৭টি সুপারিশ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণ জোরদার করা এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং ব্যবস্থাগত ব্যর্থতার ফল—যা থেকে শিক্ষা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.