ইইউ আইনের সঙ্গে সমন্বয়ে যুক্তরাজ্যে দ্রুত আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা
যুক্তরাজ্য ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কিছু নিয়ম সহজে গ্রহণের লক্ষ্যে নতুন আইন আনতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই আইনের মাধ্যমে সরকার চাইলে প্রতিবার পূর্ণাঙ্গ সংসদীয় ভোট ছাড়াই দ্রুত প্রক্রিয়ায় ইইউর নতুন বাণিজ্য-সম্পর্কিত নিয়ম যুক্তরাজ্যে কার্যকর করতে পারবে।
সরকার বলছে, খাদ্যমান, কার্বন বাণিজ্য ও বিদ্যুৎ খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইইউর সঙ্গে নতুন চুক্তি বাস্তবায়নে এই পদক্ষেপ সহায়ক হবে। এতে করে যুক্তরাজ্য ভবিষ্যতের ইউরোপীয় মানদণ্ডের সঙ্গে “ডায়নামিক অ্যালাইনমেন্ট” বজায় রাখতে পারবে।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এতে সংসদের ভূমিকা কমে যাবে এবং ব্রাসেলসের প্রভাব পরোক্ষভাবে বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে কনজারভেটিভ দলের শ্যাডো বিজনেস সেক্রেটারি অ্যান্ড্রো গ্রাফিথ বলেন, এতে সংসদ কার্যত দর্শকের ভূমিকায় পরিণত হতে পারে। একইসঙ্গে রিফর্ম ইউকে নেতা Nigel Farage এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে এটিকে ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রণে ফেরার ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
অন্যদিকে সরকার দাবি করছে, এই প্রক্রিয়া বাণিজ্য সহজ করবে এবং রপ্তানিকারকদের জন্য জটিলতা কমাবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম কমাতে সহায়তা করবে।
বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, বিশ্বে সংঘাত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে যুক্তরাজ্যের স্বার্থ রক্ষায় ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার আশা করছে, আগামী গ্রীষ্মে একটি শীর্ষ বৈঠকে খাদ্যমান ও কার্বন বাণিজ্য সংক্রান্ত চুক্তির অগ্রগতি তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও নতুন খাতে ইইউর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক নতুনভাবে পুনর্গঠনের পথে এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.