সোমবার থেকে ইরানের বন্দর অবরোধে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে আনুষ্ঠানিক অবরোধ কার্যকর করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (গ্রিনিচ সময় ১৪:০০) থেকে এই অবরোধ শুরু হবে। তবে হরমুজ প্রণালিতে অ-ইরানি বন্দরের উদ্দেশ্যে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে তারা।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করা সব জাহাজকে অবরোধ করা হবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে কেন্দ্র করে এমন ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ব্যর্থতাই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠকেও দুই দেশ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নমনীয় হয়নি। অন্যদিকে, ইরানের অভিযোগ— যুক্তরাষ্ট্র ‘অতিরিক্ত কঠোর শর্ত’ আরোপ করেছে এবং আস্থার সংকট কাটাতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “কোনো হুমকির কাছে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না।” একই সঙ্গে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো সামরিক উপস্থিতি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
এদিকে পরিস্থিতির প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, যা নতুন করে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল দুই পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। যদিও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবুও নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী কৌশল এবং সম্ভাব্য নতুন সংলাপ উদ্যোগের ওপর।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.