ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ভেস্তে গেল কেন? সামনে কী আশঙ্কা
দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
কেন ব্যর্থ হলো আলোচনা
বিশ্লেষকদের মতে, মূলত কয়েকটি বড় ইস্যুতে তীব্র মতবিরোধের কারণেই আলোচনা ভেস্তে যায়—
১. হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ:
পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। ইরান নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বজায় রাখতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র চায় অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে।
২. পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম ইস্যু:
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত এবং পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর শর্ত দেয়। তবে ইরান তা ‘অযৌক্তিক’ দাবি করে প্রত্যাখ্যান করে।
৩. আস্থার ঘাটতি:
দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি দেয়নি। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
৪. আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব:
লেবানন ইস্যু, বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে সংঘাত বন্ধের প্রশ্নে ইরান অনড় থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তা আলোচনার অংশ হিসেবে মানতে রাজি হয়নি।
আলোচনার প্রেক্ষাপট
প্রায় পাঁচ দশকের মধ্যে এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি সংলাপ। যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তবে আলোচনার সময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুলনামূলক নির্লিপ্ত অবস্থান দেখান, যা আলোচনার গুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিশ্লেষকদের মধ্যে।
এরপর কী?
আলোচনা ব্যর্থ হলেও কূটনীতির পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্রগতি নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর।
ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, “কূটনীতি কখনো শেষ হয় না”—তবে এক দফা আলোচনায় সব সমাধান হবে এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো উভয় পক্ষকে আবারও আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। পাকিস্তানও মধ্যস্থতা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা
চুক্তি না হওয়ায় কয়েকটি বড় ঝুঁকি সামনে এসেছে—
যুদ্ধবিরতি টিকবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি লেবাননসহ আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাবিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট কাটিয়ে ওঠা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তবে আপাতত পরবর্তী বৈঠকের কোনো সময়সূচি ঘোষণা না হওয়ায় পরিস্থিতি অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি নাকি নতুন সংঘাত—এখন সেই সিদ্ধান্তই নির্ভর করছে আগামী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.