সমঝোতা ছাড়াই ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রতিনিধিদল
ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টা বৈঠক করেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় গড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
রোববার (১২ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, দীর্ঘ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে এলেও চূড়ান্ত কোনো চুক্তি সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নমনীয় অবস্থান নিয়ে অংশ নিলেও দুই পক্ষের মতপার্থক্য দূর করা যায়নি।
ভ্যান্স বলেন, “আমরা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনায় এসেছিলাম। অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি—এটা হতাশাজনক।” তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ রেখে যাচ্ছে, যা গ্রহণ করা হবে কি না, এখন তা ইরানের ওপর নির্ভর করছে।
আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, কোনো ব্যর্থতার দায় পাকিস্তানের নয়।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও দেশটির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে—হরমুজ প্রণালি, পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে গভীর মতপার্থক্যের কারণেই আলোচনা ভেঙে যায়।
ইরানি সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় এমন কিছু শর্ত দিয়েছে, যা তাদের কাছে ‘অতিরিক্ত ও অগ্রহণযোগ্য’ মনে হয়েছে। তাদের মতে, যুদ্ধে অর্জন করতে না পারা বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে আদায় করার চেষ্টা করেছে ওয়াশিংটন।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা কমাতে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো ফল ছাড়াই শেষ হলো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ব্যর্থতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক উদ্যোগকে জটিল করে তুলতে পারে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.