চাঁদে মিশন শেষে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন চার নভোচারী
মহাকাশ গবেষণায় নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে নাসা পরিচালিত আর্টেমিস-২ মিশন। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক পর আবারও মানুষকে চাঁদের চারপাশে ঘুরিয়ে এনে সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার প্রশান্ত মহাসাগরে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদে অবতরণ করেন চার নভোচারী। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় উচ্চ তাপমাত্রা ও গতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্যারাশুটের মাধ্যমে মহাকাশযানটি অবতরণ করে। পরে উদ্ধারকারী দল দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
এই ঐতিহাসিক অভিযানে অংশ নেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কখ এবং জেরেমি হ্যানসেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু করে প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে চাঁদের অদৃশ্য পাশ প্রদক্ষিণ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭-এর পর প্রথম মানবচালিত চন্দ্র অভিযান। একই সঙ্গে এই মিশনে নভোচারীরা মানব ইতিহাসে সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রমের রেকর্ড গড়েছেন।
মিশনের সময় ওরিয়ন মহাকাশযানের তাপরোধক ঢাল, ন্যাভিগেশন এবং জীবনধারণ সহায়ক বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণ পরিকল্পনার জন্য এসব তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
পৃথিবীতে ফেরার সময় তীব্র তাপের কারণে কিছু সময়ের জন্য মহাকাশযানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা মহাকাশ অভিযানের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত। তবে সব বাধা অতিক্রম করে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন সফলতার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
এই অভিযানে ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী হিসেবে চাঁদ প্রদক্ষিণের কৃতিত্ব অর্জন করেন। একইভাবে ক্রিস্টিনা কখ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-আমেরিকান হিসেবে এই মিশনে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েন।
বর্তমানে চার নভোচারী চিকিৎসা পরীক্ষা শেষে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত জনসন স্পেস সেন্টারে ফিরে যাবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মিশনের সাফল্য ভবিষ্যতের চাঁদে মানব অবতরণসহ গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানের পথ আরও সুগম করবে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.