মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন ‘নিরাপত্তার বদলে ঝুঁকিতে'
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন কার্যত নিরাপত্তার বদলে বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক আধিপত্যের ভিত্তিই নড়ে গেছে।
ওয়াশিংটনে আরব সেন্টারের এক সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টা হামলায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা অন্তত এক ডজন মার্কিন ঘাঁটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে এসব ঘাঁটি এখন আগের মতো কার্যকর নেই।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক মার্ক লিঞ্চ বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির যে ভৌত অবকাঠামো ছিল, ইরান মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেটিকে প্রায় অকেজো করে দিয়েছে। তার ভাষায়, মার্কিন ঘাঁটিগুলোর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে বাস্তবে পরিস্থিতি অনেক বেশি ভয়াবহ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরও এখন বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগেই সেখানে কর্মরত অধিকাংশ মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ঘাঁটিতে শুধু প্রয়োজনীয় জনবল রাখা হয়েছিল। একই সময়ে ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজও বন্দর ছেড়ে যায়।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এসব ঘাঁটিতে প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন থাকে। তবে সাম্প্রতিক হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রশ্ন উঠেছে, এসব ঘাঁটি আদৌ তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে কি না, নাকি উল্টো ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
বিশ্লেষক শানা মার্শাল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য সুবিধার চেয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, কোনো দেশে মার্কিন ঘাঁটি থাকলে সেই দেশ সরাসরি সংঘাতের অংশে পরিণত হচ্ছে। ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধে কাতার, সৌদি আরব, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাতারে দুই শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। সৌদি আরব ও জর্ডানেও একাধিক হামলা চালানো হয়।
বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পারসি বলেন, এই যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে যে উপসাগরীয় দেশগুলো আর আগের মতো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভর করতে পারছে না। বরং মার্কিন ঘাঁটিগুলো হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। ফলে ভবিষ্যতে উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তার জন্য নতুন জোট বা আঞ্চলিক সমঝোতার দিকে ঝুঁকতে পারে।
তার মতে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা অথবা ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা সমীকরণ গড়ে তোলার বিষয়েও এখন উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.