পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে জামায়াতসহ তিন দলের নাম রেখেই বিল পাস

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:৪২ (মঙ্গলবার)
পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে জামায়াতসহ তিন দলের নাম রেখেই বিল পাস

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগী হিসেবে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আজম খান ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন বিল-২০২৬’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে দফাওয়ারি অনুমোদনের পর বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

নতুন আইনে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী শক্তির তালিকায় রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস, শান্তি কমিটির পাশাপাশি তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম রাখা হয়েছে।

সংসদে বিলটি নিয়ে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নাম আইনের সংজ্ঞায় এভাবে অন্তর্ভুক্ত করা ঠিক নয়। তার ভাষায়, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকার এলেও এর আগে কোনো আইনে রাজনৈতিক দলগুলোর নাম এভাবে যুক্ত করা হয়নি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১৯৭১ সালে কার কী ভূমিকা ছিল, সেটির পূর্ণ সাক্ষী আল্লাহ। আমরা সবাই আংশিক সাক্ষী।” তিনি আরও বলেন, দেশে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন এবং নতুন করে বিভক্তি সৃষ্টি করা উচিত নয়।

তবে তিনি বিলের কোনো ধারার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক সংশোধনী প্রস্তাব দেননি। বক্তব্য শেষ হওয়ার পর স্পিকার জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি লিখিতভাবে স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, এ বিলের বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য উত্থাপন করেন এবং কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়।

বিলে ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ এবং ‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবার’-এর সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দেশীয় সহযোগীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধই মুক্তিযুদ্ধ।

নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশে থেকে বিশ্ব জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রবাসী কর্মকর্তা, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যসহ আরও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

বিলে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা জাতীয়

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.