সংসদে আইন পাস করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের উদ্যোগ
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের বিধান সংবলিত একটি আইন সংসদে পাসের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সংসদীয় বিশেষ কমিটি সংশোধনীসহ ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’কে স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।
জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বে জারি করা অধ্যাদেশে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম সীমিত করার যে বিধান ছিল, তা কিছু সংশোধনের মাধ্যমে বহাল রেখে আইন হিসেবে পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সংশোধনের বিস্তারিত বিষয় এখনও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এই আইনের আওতায় সরকার প্রয়োজনে কোনো সংগঠনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও প্রচারণা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা পাবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আইনটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে প্রণয়ন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে একই প্রতিবেদনে গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত কঠোর অধ্যাদেশসহ মোট ১৬টি অধ্যাদেশ আপাতত সংসদে উত্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে এসব অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারাবে।
এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ চারটি অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। সংসদীয় কমিটির মতে, এসব বিষয়ে আরও পর্যালোচনা প্রয়োজন।
সংসদের ভেতরে এই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে ভিন্নমতও দেখা গেছে। কয়েকজন সদস্য একাধিক অধ্যাদেশের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন এবং পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন বা বাতিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এসব সুপারিশ সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইনটি পাস হলে তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি রাষ্ট্রীয় নীতি, আইন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.