যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে কূটনৈতিক উদ্যোগে বড় ধাক্কা লেগেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে সম্ভাব্য সংলাপে অংশ নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার পথ আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পাকিস্তানকে ইরান স্পষ্টভাবে জানায়— তারা ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে কোনো প্রতিনিধি পাঠাবে না। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা কার্যত ভেস্তে গেছে।
ইরানের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তাবলি। তেহরানের দাবি, প্রস্তাবে থাকা বেশিরভাগ শর্তই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে আলোচনায় বসার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে যে সংঘাত শুরু হয়, তার পর থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন দেশ সক্রিয় হয়। পাকিস্তান এ ক্ষেত্রে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেয়। পাশাপাশি মিসর ও তুরস্কও কূটনৈতিক তৎপরতায় যুক্ত ছিল।
মার্চ মাসজুড়ে পাকিস্তান গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালায়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি বিস্তৃত শান্তি প্রস্তাবও পাঠানো হয়, যেখানে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী এবং অবরোধ তুলে নিতে প্রস্তুত। এই বক্তব্যের পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে তা সরাসরি অস্বীকার করা হয় এবং এটিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করা হয়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসলামাবাদে সম্ভাব্য এই সংলাপটি সফল হলে যুদ্ধ পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হতে পারত। কিন্তু ইরানের অস্বীকৃতিতে সেই সম্ভাবনা আপাতত নষ্ট হয়ে গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক পথ সংকুচিত হওয়ায় সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.