শেষ মুহূর্তে জটিলতা তবুও এগোচ্ছে উৎক্ষেপণ
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর মানুষকে নিয়ে চাঁদের দিকে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা। তবে উৎক্ষেপণের ঠিক আগ মুহূর্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি ধরা পড়েছে, যা নিয়ে কাজ করছেন প্রকৌশলীরা। তবুও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী উৎক্ষেপণের কাউন্টডাউন আপাতত চালু রাখা হয়েছে।
নাসা জানিয়েছে, রকেটের ‘ফ্লাইট টার্মিনেশন সিস্টেম’ নামের একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সমস্যা শনাক্ত হয়েছে। এই সিস্টেমের কাজ হলো রকেট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেটিকে ধ্বংস করে সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়ানো। কিন্তু উৎক্ষেপণের আগে এই সিস্টেমটি পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে যোগাযোগজনিত জটিলতা দেখা দিয়েছে।
প্রকৌশলীরা পুরোনো মহাকাশযান ব্যবস্থার কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে চারজন নভোচারী ইতোমধ্যে মহাকাশযানের ভেতরে অবস্থান নিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করছেন। এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন তিনজন মার্কিন এবং একজন কানাডীয় নভোচারী। প্রায় ১০ দিনের এই মিশনে তারা চাঁদের চারপাশে ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। যদিও তারা চাঁদে অবতরণ করবেন না, তবে এই যাত্রায় মানবজাতির ইতিহাসে সবচেয়ে দূরবর্তী মহাকাশ ভ্রমণের রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অভিযানে ব্যবহৃত মহাকাশযানটি তুলনামূলক ছোট আকারের, যেখানে সীমিত জায়গায় নভোচারীদের পুরো যাত্রা সম্পন্ন করতে হবে। শক্তিশালী রকেটের মাধ্যমে এটি মহাকাশে পাঠানো হবে, যা এর আগে একবার পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
উৎক্ষেপণটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্র থেকে হওয়ার কথা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত সময়েই উৎক্ষেপণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাকাশ অভিযানের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধাপ হলো উৎক্ষেপণের সময়। তাই প্রতিটি প্রযুক্তিগত বিষয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
সবকিছু ঠিক থাকলে এই মিশন ভবিষ্যতে মানুষের চাঁদে প্রত্যাবর্তনের পথ আরও সুগম করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অনুসন্ধানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.