হরমুজ ইস্যুতে মিত্রদের ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

প্রকাশিত: ৩১ মার্চ, ২০২৬ ২৩:০৯ (শুক্রবার)
হরমুজ ইস্যুতে মিত্রদের ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়তেই মিত্র দেশগুলোর প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করায় যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশকে সরাসরি সতর্ক করেছেন তিনি।

মার্কিন ও ইউরোপীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালির সংকটে জ্বালানি সংকটে পড়েছে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেয়নি, তাদের এখন নিজেদের উদ্যোগেই তেল সংগ্রহ করতে হবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সবসময় পাশে থাকবে—এ ধারণা বদলাতে হবে।”

বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানো দেশগুলো ভবিষ্যতে মার্কিন সহায়তা নাও পেতে পারে। এ অবস্থানকে অনেক বিশ্লেষক ট্রাম্পের কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার  স্টারমার ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না। তবে দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা ও নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

বিশ্ববাজারে এর প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠেছে। এতে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হওয়ায় এখানে যেকোনো উত্তেজনা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য মিত্রদের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা ইস্যুকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে কৌশলগত দূরত্ব বাড়ছে কিনা, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.