আটক বা ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিতর্ক

প্রকাশিত: ২৮ মার্চ, ২০২৬ ০৬:২৯ (বৃহস্পতিবার)
আটক বা ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিতর্ক

রাশিয়ার তেল বহনের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত একটি তেলবাহী জাহাজ যুক্তরাজ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। সরকারের কঠোর অবস্থানের ঘোষণার একদিন পরই এই ঘটনা ঘটায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, VAYU 1 নামের জাহাজটি ইংলিশ চ্যানেল হয়ে যুক্তরাজ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে এবং এক পর্যায়ে ডোভারের উপকূল থেকে প্রায় ৬ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করে। জাহাজটি ২৬ মার্চ যুক্তরাজ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে, যা সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণা পরবর্তী সময়।

এর আগে যুক্তরাজ্য সরকার ঘোষণা দেয়, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজগুলো দেশের জলসীমা অতিক্রম করলে সেগুলোতে প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী অভিযান চালাতে পারবে।

তবে জাহাজটি প্রবেশ করলেও কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এ প্রশ্নে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পৃথকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তথ্য অনুযায়ী, ক্যামেরুন পতাকাবাহী এই জাহাজটি রাশিয়ার মুরমানস্ক বন্দর থেকে ১০ মার্চ যাত্রা শুরু করে এবং এতে পূর্ণমাত্রায় তেল বোঝাই ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাহাজটির চূড়ান্ত গন্তব্য এখনও নিশ্চিত নয়।

যুক্তরাজ্য সরকার ২০২৫ সালের মে মাসে জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। অভিযোগ রয়েছে, এটি রাশিয়ার তেল তৃতীয় দেশে সরবরাহের সঙ্গে জড়িত এবং ইউক্রেন পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে তথাকথিত “শ্যাডো ফ্লিট” ব্যবহার করছে, যেখানে মালিকানা ও পরিচালনা কাঠামো অস্পষ্ট রাখা হয়।

জাহাজটির গতিপথ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এটি যুক্তরাজ্যের আঞ্চলিক জলসীমায় অন্তত ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ২৯ ঘণ্টা অবস্থান করেছে। সর্বশেষ এটি প্লাইমাউথের দক্ষিণে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের জাহাজ আটক করতে নৌবাহিনী সরাসরি অভিযান চালাতে পারে, যেখানে হেলিকপ্টার বা নৌযানের মাধ্যমে বোর্ডিং টিম জাহাজে উঠে তল্লাশি ও নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম।

এ ঘটনায় যুক্তরাজ্যের কঠোর অবস্থান কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.