ইরানের ৪০০০ কিমি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ, ঝুঁকির মুখে ইউরোপ

প্রকাশিত: ২২ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৫৬ (বৃহস্পতিবার)
ইরানের ৪০০০ কিমি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ, ঝুঁকির মুখে ইউরোপ

ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পশ্চিমা বিশ্বে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে, যা ইউরোপীয় নিরাপত্তা হিসাবেও নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ব্রিটিশ সূত্রগুলো জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। একটি মাঝপথে বিকল হয়ে যায় এবং অন্যটি মার্কিন নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ভূপাতিত হয়। তবে উৎক্ষেপণ পথ ও গতিপথ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এগুলোর পাল্লা প্রায় ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এ ধরনের সক্ষমতা থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপের বিভিন্ন শহর তাত্ত্বিকভাবে আঘাতের আওতায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেছেন, যুক্তরাজ্য ইরানের “অবিবেচক হুমকি” মোকাবিলায় প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা অব্যাহত রাখবে, তবে বৃহত্তর যুদ্ধে জড়াতে চায় না লন্ডন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নতির পাশাপাশি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার সম্ভাবনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ব্রিটিশ থিঙ্ক ট্যাংকগুলোর ধারণা, নির্ভুল লক্ষ্যভেদে সীমাবদ্ধতা থাকলেও দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতা নিজেই কৌশলগত চাপ সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট।

এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের পরিকল্পনা করছে। জি-৭ দেশগুলোর মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে জরুরি পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ মিডিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্য সীমাবদ্ধ যুদ্ধ ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.