সংকটে বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার

প্রকাশিত: ২২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:২৬ (বৃহস্পতিবার)
সংকটে বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা বন্ধ, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং নিয়োগ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় নতুন কর্মী পাঠানো যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বিদেশে থাকা প্রবাসীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।

সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, তুরস্ক, ইরাক, ইয়েমেন ও সিরিয়াসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর। অনেকেই দেশে ফিরতে পারছেন না, আবার নতুন করে কাজে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা হাজারো কর্মীর ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। জনশক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বিদেশগামী কর্মীদের প্রায় ৯০ শতাংশ মাত্র কয়েকটি দেশে যায়, যার মধ্যে সৌদি আরব একাই শীর্ষে। ২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর প্রায় দুই তৃতীয়াংশই গেছেন সৌদি আরবে। অন্যদিকে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া বা আফ্রিকার বিকল্প বাজারে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা তুলনামূলক খুবই কম।

বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আকাশপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যমুখী শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে যারা ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তারা কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না, আর যাদের ভিসা প্রস্তুত ছিল তারাও যেতে পারছেন না। অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

এদিকে সংঘাতের মধ্যে ইতোমধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা প্রবাসী পরিবারগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বহু শ্রমিক অনিয়মিত কাজের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে শুধু ব্যক্তি নয়, দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে।

অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এককভাবে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর শ্রমবাজারের কারণে বাংলাদেশ বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। বিকল্প বাজার তৈরি না হওয়ায় সংকট দেখা দিলে পুরো প্রবাসী খাতই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

সরকারি পর্যায়ে নতুন বাজার অনুসন্ধান ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে এখনও বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়াকে সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও সেখানে কর্মী পাঠানোর পরিমাণ সীমিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বিকল্প শ্রমবাজার গড়ে না তুললে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর বড় ধাক্কা আসতে পারে। বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত এখন এক অনিশ্চিত সময় পার করছে।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.