জ্বালানি সংকটে পড়বে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া
কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত দুই দফা হামলায় কাতারের এই বিশাল গ্যাস স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে পড়তে পারে।
রাস লাফান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র। কাতারের মোট গ্যাস রপ্তানির প্রায় পুরোটাই এই এলাকা থেকে পরিচালিত হয়। বিশ্ববাজারে সরবরাহকৃত এলএনজির প্রায় এক পঞ্চমাংশ আসে কাতার থেকে, যার বড় অংশই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ব্যবহার করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাত অনেকটাই কাতারের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। সরবরাহ ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ ঘাটতি, শিল্প উৎপাদন কমে যাওয়া এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় মার্চের শুরু থেকেই এলএনজি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যাহত ছিল। হামলায় স্থাপনাগুলোর ক্ষতি হওয়ায় পুনরায় উৎপাদন স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাস লাফান শুধু গ্যাস নয়, সার উৎপাদনে ব্যবহৃত ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া, সালফার এবং প্রযুক্তি শিল্পে ব্যবহৃত হিলিয়ামও সরবরাহ করে। ফলে বৈশ্বিক শিল্প ও কৃষিখাতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সরবরাহ সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে এবং সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বে আমদানিনির্ভর দেশগুলো।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.