ইরানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যৌথভাবে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫০ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য ঢাকা থেকে দুইজন কর্মকর্তা এবং তুরস্কের আঙ্কারায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে যাচ্ছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেহরান থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের স্থলপথে আজারবাইজান সীমান্তে নেওয়া হবে। সেখান থেকে বাকুর হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে তাদের ঢাকায় আনা হবে।
এই অভিযানের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। প্রত্যাবাসনের আনুষঙ্গিক ব্যয়—ভিসা ফি, চিকিৎসা, খাদ্য এবং স্থল পরিবহন খরচ—ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বহন করবে বলে জানা গেছে। চার্টার ফ্লাইটের ব্যয় বহন করবে সরকার।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, আজারবাইজানের আকাশসীমা আংশিক চালু থাকায় বাকু থেকে কাস্পিয়ান সাগর হয়ে বিমান চলাচল সম্ভব হচ্ছে। সে কারণে এই রুটকে নিরাপদ বিবেচনা করা হয়েছে। আগামী ১৯ অথবা ২০ মার্চের মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে ব্যাপক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ একাধিক দেশ ফ্লাইট সীমিত বা বন্ধ করেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও; গত ১৮ দিনে ৫৫৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে চারজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন—সৌদি আরবে দুজন, বাহরাইনে একজন এবং দুবাইয়ে একজন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন। যুদ্ধের প্রভাব ইসরায়েল ও লেবাননের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের আরও বহু দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে গত বছরও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান থেকে বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। বর্তমানে বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে কাজ করছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে দ্রুত প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করতে সরকার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.