মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ কমিটি গঠন করলো সরকার
বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় সাত সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সংকট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।
মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে সোমবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী এবং খাদ্যমন্ত্রী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণ করবে কমিটি। পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও সংকট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে তারা।
প্রয়োজনে কমিটি অতিরিক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কমিটির সচিবিক সহায়তা দেবে অর্থ বিভাগ।
সম্প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে রেমিট্যান্স প্রবাহেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া লোহিত সাগরের অস্থিরতার কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয় ও সময় বেড়ে যাওয়ায় আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যেও চাপ বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানি ও পণ্য আমদানির উৎস খোঁজা এবং আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.