‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু, প্রথম ধাপে পাবেন ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবার

প্রকাশিত: ১০ মার্চ, ২০২৬ ০৫:২৭ (শুক্রবার)
‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু, প্রথম ধাপে পাবেন ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবার

নারীপ্রধান পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

সোমবার সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যাতে সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাত রাখা হয়নি বলেও তিনি জানান।

জানা গেছে, পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করতে জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। তারা সরেজমিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, আয়, আবাসন ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করেন।

পাইলট পর্যায়ে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে দারিদ্র্য সূচক বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে ভাতার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তিসংবলিত একটি করে কার্ড দেওয়া হবে। কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। সাধারণত পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য একটি কার্ড দেওয়া হবে। তবে সদস্যসংখ্যা বেশি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক কার্ড দেওয়া হতে পারে।

ভাতার টাকা সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠানো হবে, যাতে কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ না থাকে।

পাইলট পর্যায়ের জন্য আগামী জুন পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। বাকি অর্থ কার্ড প্রস্তুত ও অনলাইন ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় ব্যয় করা হবে।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.