‘জ্বালানি সাশ্রয়’ অজুহাতে স্বাধীনতা দিবসে থাকছে না আলোকসজ্জা

প্রকাশিত: ০৮ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৫২ (শুক্রবার)
‘জ্বালানি সাশ্রয়’ অজুহাতে স্বাধীনতা দিবসে থাকছে না আলোকসজ্জা

আসন্ন স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সরকারি-বেসরকারি ভবনে ঐতিহ্যবাহী আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জ্বালানি সাশ্রয় এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সামান্য অজুহাতে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসের আয়োজনকে সীমিত করা স্বাধীনতার চেতনার প্রতি অবহেলার শামিল।

রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার সরকারি-বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এতে জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, স্বাধীনতা দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় দিনগুলোর একটি। এমন দিনে জাতীয় উদযাপন সীমিত করা বা প্রতীকী আয়োজন বাদ দেওয়া জাতির আত্মত্যাগের ইতিহাসকে যথাযথভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।

সমালোচকদের দাবি, রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের প্রশ্নে স্বাধীনতা দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষকে জ্বালানি সাশ্রয়ের যুক্তিতে সংকুচিত করা যৌক্তিক নয়। তাদের মতে, রাষ্ট্র চাইলে সীমিত পরিসরেও আলোকসজ্জা বা প্রতীকী উদযাপন বজায় রাখতে পারত। এতে জাতীয় আবেগ ও ঐতিহ্যও অক্ষুণ্ণ থাকত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য জানিয়েছেন, আলোকসজ্জা না থাকলেও স্বাধীনতা দিবসের মূল কর্মসূচি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হবে। ২৬ মার্চ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দিবসটি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে সমালোচকদের মতে, আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি থাকলেও আলোকসজ্জা বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত স্বাধীনতার আবেগঘন পরিবেশকে অনেকটাই ম্লান করে দিতে পারে। তাদের ভাষ্য, দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় দিবসগুলোতে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

ফলে স্বাধীনতা দিবসের আলোকসজ্জা বাতিলের সিদ্ধান্তকে অনেকেই সরকারের উদাসীনতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.