ফেব্রুয়ারিতে ৫১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪৩২ জনের

প্রকাশিত: ০৮ মার্চ, ২০২৬ ১৪:১৬ (শুক্রবার)
ফেব্রুয়ারিতে ৫১৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৪৩২ জনের

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমার বদলে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের বিভিন্ন সড়কে মোট ৫১৭টি দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৩২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

রোববার (৮ মার্চ) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। দেশের ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী নিহত হয়েছেন ১৭৪ জন। এছাড়া বাসের যাত্রী ২২ জন, ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-লরি আরোহী ২৪ জন, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস আরোহী ১৬ জন নিহত হয়েছেন। থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক, সিএনজি, অটোরিকশা, অটোভ্যান, লেগুনা) যাত্রী নিহত হয়েছেন ৬৪ জন এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ২৩ জন। এছাড়া সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন ৭ জন।

দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫৭টি জাতীয় মহাসড়কে, ২১৩টি আঞ্চলিক সড়কে, ৫৬টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৮৪টি শহরের সড়কে ঘটেছে। এছাড়া ৭টি দুর্ঘটনা অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১৩টি দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষে, ২২৮টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১০৪টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে এবং ৬৮টি দুর্ঘটনা অন্য যানবাহনের পেছনে ধাক্কা দেওয়ার কারণে ঘটেছে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২২টি দুর্ঘটনায় ১০৯ জন নিহত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ২৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২২ জন। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়া একই সময়ে দেশে ৮টি নৌ দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ৪৩টি রেল দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, অতিরিক্ত গতি, চালকদের অদক্ষতা, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বেতন কাঠামোর অভাব, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

সংগঠনটি দুর্ঘটনা কমাতে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়ানো, চালকদের নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও বেতন নির্ধারণ, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ, স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য আলাদা সড়ক নির্মাণ এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধের মতো বিভিন্ন সুপারিশ করেছে।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.