আমিরাত, কুয়েত ও ইসরায়েলে ইরানের ব্যাপক ড্রোন হামলা

প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬ ১৮:২৩ (শুক্রবার)
আমিরাত, কুয়েত ও ইসরায়েলে ইরানের ব্যাপক ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী বলেছে, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ওই দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত স্থাপনা।

শনিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ইরানি নৌবাহিনী এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটি, কুয়েতের একটি মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের একটি কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

পরে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও পৃথক বিবৃতিতে জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমান ঘাঁটিকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামো রয়েছে বলে জানা যায়।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলার ফলে মার্কিন বাহিনীর আকাশযুদ্ধ পরিচালনা কেন্দ্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, আগাম সতর্কীকরণ রাডার এবং ফায়ার কন্ট্রোল রাডারের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিক যাচাই সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়। এরপর থেকে ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে আসছে তেহরান।

এদিকে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়েও নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে নৌবাহিনীর পাহারা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে।

এর জবাবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতির জন্য তারা অপেক্ষা করছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, মার্কিন বাহিনী সেখানে প্রবেশ করলে ইরান শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.