ইরান ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান বদলায়নি: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলায় যুক্তরাজ্যের অবস্থান বদলায়নি বলে জানিয়েছে ডাউনিং স্ট্রিট। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলেছে, যুক্তরাজ্য এখনো সরাসরি আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না এবং তাদের নীতি পুরো সপ্তাহজুড়েই একই রয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল সংঘাত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য প্রতিটি পরিস্থিতি নিয়ে অনুমান করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়। তাই সরকার কোনো কাল্পনিক সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য করতে চায় না।
ডাউনিং স্ট্রিটের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বর্তমান অবস্থান হলো মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ নাগরিক, স্বার্থ এবং মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে সীমিত এবং প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মুখপাত্র আরও জানান, যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী বর্তমানে আকাশ প্রতিরক্ষার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। ব্রিটিশ বাহিনী মূলত ড্রোন ও অন্যান্য আকাশ হামলা প্রতিহত করার কাজে নিয়োজিত রয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি কমানো এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিরোধ করা। ব্রিটিশ সরকার বলছে, তাদের অবস্থান শুরু থেকেই একই ছিল এবং এতে কোনো নীতিগত পরিবর্তন হয়নি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি সম্প্রতি বলেছেন, যদি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্রিটিশ নাগরিক বা স্বার্থের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে ওঠে, তাহলে আত্মরক্ষার অধিকার অনুযায়ী ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলা চালানো আইনগতভাবে সম্ভব।
তবে এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলের কিছু নেতা দাবি করেছেন, এতে সরকারের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ডাউনিং স্ট্রিট তা অস্বীকার করে বলেছে, এটি কোনো নীতিগত পরিবর্তন নয়।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থেকেই মিত্রদের সহায়তা করছে এবং সরাসরি যুদ্ধের অংশ হতে চায় না বলে সরকার জানিয়েছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.