যানবাহনের জন্য বাড়তি জ্বালানি তেল কেনায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত: ০৬ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৫৯ (রবিবার)
যানবাহনের জন্য বাড়তি জ্বালানি তেল কেনায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় জ্বালানি বিক্রিতে নতুন সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এক প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে, এখন থেকে মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন কিনতে পারবে।

শুক্রবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সংকটের কারণে জ্বালানি তেল আমদানির ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহ বিলম্বিত হতে পারে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি সংকট নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা দেখা গেছে। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুদ করার চেষ্টা করছেন, যা বাজারে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করছে।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জ্বালানি বিক্রিতে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী জিপ ও মাইক্রোবাস সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল কিনতে পারবে। পিকআপ ও লোকাল বাসের জন্য ডিজেলের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। দূরপাল্লার ট্রাক ও বাস সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে আমদানি প্রক্রিয়া কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও সরকার নিয়মিতভাবে বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করছে এবং তা দেশের বিভিন্ন ডিপোতে সরবরাহ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই দেশে পর্যাপ্ত মজুদ বা বাফার স্টক গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

নতুন নির্দেশনায় ফিলিং স্টেশনগুলোকে তেল বিক্রির সময় ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে রসিদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তীবার তেল নেওয়ার সময় আগের রসিদের কপি জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, সংকটের অজুহাতে জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত মূল্য আদায় আইনগত অপরাধ। দেশে সরকার নির্ধারিত মূল্যেই জ্বালানি তেল বিক্রি করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.