রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে ৩৪ বাংলাদেশির মৃত্যু
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে এখন পর্যন্ত ৩৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের এক প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, মোট ১০৪ জন বাংলাদেশি এই যুদ্ধে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত হয়েছেন।
ফর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডস নামে দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যৌথভাবে প্রকাশিত ৬২ পৃষ্ঠার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল প্রতারণা ও মানবপাচারের মাধ্যমে বাংলাদেশি পুরুষদের যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্থিক সংকটে থাকা বাংলাদেশি তরুণদের নিরাপদ চাকরি বা বেসামরিক কাজের প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছে তাদের রুশ ভাষায় লেখা চুক্তিতে সই করানো হয়, যা অনেকেই বুঝতে পারেননি। পরে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে তাদের রাশিয়ার সামরিক স্থাপনায় স্থানান্তর করে ইউক্রেন সীমান্তে পাঠানো হয়।
সংগঠন দুটির দাবি, এটি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে মানবপাচারের শামিল হতে পারে। কিছু ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, উল্লেখযোগ্য প্রশিক্ষণ ছাড়াই তাদের সম্মুখসমরে পাঠানো হয়। অনেকে স্থলমাইন বিস্ফোরণ ও ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন। কারও কারও অভিযোগ, বেতন আটকে রাখা হয়েছে এবং পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছিল। পালানোর চেষ্টা করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ইউক্রেনে ২৪টি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এতে যুদ্ধফেরত ব্যক্তিদের পাশাপাশি নিহতদের পরিবার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং পাচারবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।
শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশ থেকেও অনেককে একইভাবে যুদ্ধে জড়ানোর তথ্য উঠে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠন দুটি বাংলাদেশ সরকারকে পাচারচক্র ভেঙে দেওয়া, ভুক্তভোগীদের সহায়তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি উত্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে বিদেশি নাগরিকদের জড়িয়ে পড়া নতুন মানবিক সংকট তৈরি করছে। অর্থনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.