‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ বিতর্কে টুকুর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১৩:৫০ (সোমবার)
‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ বিতর্কে টুকুর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জামায়াতের

‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, মন্ত্রীর মন্তব্য ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব ও গণআকাঙ্ক্ষার বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল।

রোববার এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অসংগত ও অপ্রাসঙ্গিক। জুবায়ের উল্লেখ করেন, ‘ইনকিলাব’ শব্দটি আরবি উৎস থেকে এলেও উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম ও গণঅধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভাষা জনগণের ব্যবহারে বিকশিত হয়, একে সংকীর্ণতায় আবদ্ধ করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, বাংলা ভাষা তদ্ভব, তৎসম, আরবি, ফারসি, পর্তুগিজ ও ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষা থেকে শব্দ গ্রহণ করে সমৃদ্ধ হয়েছে। কোনো শব্দের উৎপত্তিকে কেন্দ্র করে তাকে বাংলাবিরোধী আখ্যা দেওয়া ভাষাবিজ্ঞানের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্লোগান নয়; এটি শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। জনগণের প্রতিবাদের ভাষাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করা হয়।

মন্ত্রী টুকুর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জুবায়ের প্রশ্ন তোলেন, জনদুর্ভোগ, দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কিংবা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অনিয়ম নিয়ে কেন একই ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করা হয় না।

বিবৃতির শেষে জামায়াতে ইসলামী মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানায় এবং ভাষার প্রশ্নে বিভাজন সৃষ্টির প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার দাবি তোলে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.