মধ্যপ্রাচ্যে অর্ধশতাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৪:১৪ (সোমবার)
মধ্যপ্রাচ্যে অর্ধশতাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় অঞ্চলটিতে ৫০টির বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একই সময়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

মার্কিন একাধিক কর্মকর্তার বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এ মোতায়েনের মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ ২২ র‍্যাপ্টর, এফ ৩৫ লাইটনিং টু এবং এফ ১৬ যুদ্ধবিমান। এর সঙ্গে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ সক্ষম ট্যাঙ্কার বিমানও পাঠানো হয়েছে, যাতে দীর্ঘ সময় আকাশে টহল ও অভিযানে সক্ষমতা বজায় থাকে।

কোন ঘাঁটিতে মোতায়েন?

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধবিমানগুলোর একটি অংশ কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে অবস্থান নিয়েছে। কিছু বিমান সম্ভবত জর্ডান ও সৌদি আরবের ঘাঁটিতেও গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট ঘাঁটির নাম প্রকাশ করেনি।

এর আগে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিমানবাহী রণতরী ও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ পারস্য উপসাগর ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থান নেয়। নতুন করে যুদ্ধবিমান পাঠানো সেই সামরিক প্রস্তুতিকে আরও দৃশ্যমান করে তুলেছে।

কূটনীতি ও শক্তি প্রদর্শন একসঙ্গে

এই মোতায়েনের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার টেবিলে চাপ সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের আশ্বস্ত করাই ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য হতে পারে।

ইরান গত জানুয়ারি থেকে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখোমুখি। বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো তেহরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর প্রেক্ষাপটে ইরানও পারস্য উপসাগরে সামরিক মহড়া জোরদার করেছে।

আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া

ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। তেল আবিব প্রকাশ্যে বলেছে, প্রয়োজনে এককভাবেও ব্যবস্থা নেবে। উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে “উসকানিমূলক” বলে অভিহিত করেছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নষ্টের দায় ওয়াশিংটনের ওপর চাপিয়েছে।

সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এত সংখ্যক যুদ্ধবিমান একসঙ্গে মোতায়েন সাধারণত দুই ধরনের বার্তা দেয়: এক, তাৎক্ষণিক সামরিক প্রস্তুতি; দুই, কূটনৈতিক আলোচনায় চাপ প্রয়োগ। বর্তমানে সরাসরি সামরিক সংঘাতের লক্ষণ স্পষ্ট না হলেও ভুল বোঝাবুঝি বা সীমিত সংঘর্ষ বড় আকার নিতে পারে—এ আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

মধ্যপ্রাচ্য এমনিতেই গাজা সংকট, লেবানন সীমান্ত উত্তেজনা এবং ইয়েমেন পরিস্থিতির কারণে অস্থিতিশীল। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জোরদার উপস্থিতি পুরো অঞ্চলে নতুন করে অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি করেছে।

পরিস্থিতি এখন কূটনীতির পথেই এগোয়, নাকি শক্তির প্রদর্শন সংঘাতে রূপ নেয়—সেটিই দেখার বিষয়।

সম্পাদক ও প্রকাশক: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +44 7440589342

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.