লন্ডনের ‘ভূতুড়ে’ স্টেশন ব্লেক হলের গল্প

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০১:৩৮ (বৃহস্পতিবার)
লন্ডনের ‘ভূতুড়ে’ স্টেশন ব্লেক হলের গল্প

লন্ডনের ব্যস্ত পাতালরেল নেটওয়ার্কের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে, এম২৫ সড়কের কাছেই দাঁড়িয়ে আছে এক ভিন্ন ইতিহাসের সাক্ষী। যে ভবনটি একসময় ছিল যাত্রী ওঠানামার স্টেশন, সেটিই এখন শান্ত এক ব্যক্তিগত বাসভবন।

 

এসেক্সের স্ট্যানফোর্ড রিভার্স এলাকায় অবস্থিত Blake Hall স্টেশন একসময় পরিচিত ছিল লন্ডনের সবচেয়ে কম ব্যবহৃত পাতালরেল স্টেশন হিসেবে। বন্ধ হওয়ার আগে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ছয়জন যাত্রী এখানে যাতায়াত করতেন। এমনকি সর্বোচ্চ সময়েও দৈনিক যাত্রীসংখ্যা ১৭ জনের বেশি হয়নি।

 

বর্তমানে সবচেয়ে কম ব্যবহৃত স্টেশনের তকমা রয়েছে Roding Valley স্টেশনের দখলে, যা সেন্ট্রাল লাইনের হাইনল্ট লুপ অংশে লন্ডন–এসেক্স সীমান্তে অবস্থিত।

 

১৮৬৫ সালে চালু হওয়া ব্লেক হল মূলত স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য রাজধানীতে আনার সুবিধার্থে নির্মিত হয়েছিল। পরে ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত এপিং–ওঙ্গার রুটে চলাচলকারী শাটল ট্রেন এখানে থামত। ১৯৫৭ সালে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর মাধ্যমে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সেন্ট্রাল লাইনের অন্তর্ভুক্ত হয়।

 

কিন্তু প্রত্যন্ত অবস্থানের কারণে যাত্রীসংখ্যা কখনোই বাড়েনি। ১৯৬৬ সালের পর রবিবারে ট্রেন থামা বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯৮১ সালে এটি অর্থনৈতিকভাবে অকার্যকর ঘোষণা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদিও ওই রুটে ট্রেন চলাচল অব্যাহত ছিল ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত।

 

পরবর্তীতে স্টেশন ভবনটি বেসরকারি মালিকানায় বিক্রি হয়ে ব্যক্তিগত বাড়িতে রূপ নেয়। পুরোনো প্ল্যাটফর্ম ভেঙে ফেলা হলেও ২০১২ সালে নান্দনিকতার জন্য সেটি আবার নির্মাণ করা হয়।

 

বর্তমানে ইপিং রেলওয়ে এই লাইনে ঐতিহ্যবাহী ট্রেন চালালেও ব্লেক হলে আর কোনো যাত্রী ওঠানামা করে না।

 

ইতিহাসের এক নীরব স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একসময়কার এই নির্জন স্টেশন।

বায়ান্ননিউজ২৪/এডিটর ইন চীফ 

এডিটর ইন চীফ: গোলাম রসুল খান

মোবাইল: +447538476881

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.